আজি এ বসন্তে

শীতের জড়তা কাটিয়ে এসেছে ঋতুরাজ বসন্ত। গাছে গাছে শিমুল, পলাশ, বসন্ত বাহার, সজিনাসহ আমের মুকুলের মৌ মৌ ঘ্রাণ। সাথে রয়েছে পাখির কলকাকলি। বসন্ত মানেই রঙের মেলা। হরেক রঙের স্পর্শে বাঙালীর অনাড়ম্বর জীবনে আনে আড়ম্বর। শিমুল-পলাশের আগুনঝরা রূপ যেন পুড়িয়ে দিচ্ছে তরুণ-তরুণীদের। তবে পরিবেশবিদরা বলছেন, বৈষ্যিক উষ্মতার কারণে প্রকৃতিতে এসেছে কিছুটা পরিবর্তন। ফলে বসন্তের ছোয়া লাগছে আগেভাগেই।
ইট-পাথরের ধূসর নগরে বিভিন্ন উৎসবের মধ্যে যেন সীমাবদ্ধ বসন্ত। গাড়ির বিকট হর্ণে ঝালাপালা কান। কোথায় শিমুল আর পলাশ, কোথায় পাখির কলকাকলি। তাদের দেখা মেলা ভার। তবে গ্রাম বাংলায় মৌমাছির গুনগুনানি, গাছে গাছে পলাশ, শিমুল, সজিনাসহ বিভিন্ন ফুলের সমারহ বলছে আজ বসন্ত। সকালের ঘুমভাঙানি দক্ষিণা সমীরণে কেটেছে শীতের জরাগ্রস্ততা। জেগেছে আশ্চর্য শিহরণ। গাছে গাছে আমের মৌ মৌ ঘ্রাণ। ডালে ডালে পাখিদের ছুটাছুটি। শরীরময় ছড়িয়ে পড়েছে যৌবনের উত্তাল উচ্ছলতা-উদ্যমতা। বসন্তের মাতাল হাওয়ায় মন-ময়ূরী বেশি আন্দোলিত হয়ে ওঠেছে তরুন-তরুণীসহ নানা বয়সের মানুষের মধ্যে। তাইতো বসন্তকে বরণ করতে তারা ছুটছেন বিভিন্ন স্থানে। নানা প্রকার ফুলের সমারহে মুগ্ধ প্রকৃতি প্রেমীরা। কেননা ফুল ফুটবার পুলকিত সময় বসন্ত। বন-বনান্তে, কাননে-কাননে পারিজাতের রঙের কোলাহল, আর বর্ণাঢ্য সমারোহ। ফুলের সৌন্দর্য আকৃষ্ট করছে সব বয়সের মানুষকে।

মেহেরপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের বাংলা বিভাগের ইন্সট্রাকটর মৌসূমী ঢালী জানান, বসন্তে নারীরাও আটপওরে জীবন থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। হয়ে ওঠে প্রকৃতির প্রতিদ্বন্দ্বী। প্রকৃতির মত চঞ্চল। নিজেকে মেলে ধরে বাসন্তি রঙের শাড়িতে। হাতে নানা রঙের রেশমি চুড়ি, খোপায় ফুল, হাতে মেহেদীর রঙে নিজেকে রাঙিয়ে তোলে।

তরুণী মৌ জানান, বসন্ত মানেই চারিদেকে ফুলের সমারহ। দিনটি এলেই বাসন্তি রঙের শাড়িতে বিভিন্ন ফুল দিয়ে নিজেকে সাজতে ইচ্ছে করে। সময় দেয়া হয় আপনজনদের সাথে। আবার প্রীয় মানুষের সাথে ঘুরে বেড়ানোর মধ্যেই যেন আনন্দ।
তরুণ সাংস্কৃতিক কর্মী রিয়াজুল আফরোজ কমল জানান, বসন্ত এলেই মনের মধ্যে অন্যরকম অনূভূতি কাজ করে। চারিদেকে যেন সবুজের সমারহ। ফুল, পাখি, ফল সব কিছুর মধ্যেই যেন নতুনত্ব কাজ করে। সবাই যেন প্রাণ ফিরে পায়। চারিদেক সুগন্ধ। বসন্ত প্রকৃতিকে এমনভাবে সাজাই, যেন মনে হয় বাংলাদেশের মত এত সুন্দর প্রাকৃতিক দেশ পৃথিবীতে আর নেই। বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে তরুণরা যেন বসন্তের নৈস্বর্গীক সৌন্দর্য ভূলে যেতে বসেছে। তারপরও বসন্ত এলেই তরুণ-তরুণীরা ছুটে যেতে চায় প্রকৃতির কাছে।
মেহেরপুর গাংনী ডিগ্রী কলেজের অবসরপ্রাপ্ত সহযোগী অধ্যাপক এনামূল আযীম জানান, বসন্ত প্রাণীদের জন্য প্রজনন মৌসূম। তাদের গায়ের রঙের পরিবর্তন আসে। পাখিদের পালক পরিবর্তন হয়। প্রাণীকুল নেচে গেয়ে আনন্দ প্রকাশ করে। সমস্ত জড়তা কাটিয়ে সবার মাঝে প্রাণ চাঞ্চল্য ফিরে আসে। বিয়ে গায়ে হলুদ, সুন্নতে খাৎনা, পিকনিক সমস্ত আয়োজনই হয় বসন্তকে ঘিরে। তবে প্রকৃতির খামখেয়ালিপনায় প্রভাব পড়েছে ঋতুতেও। বসন্তও কিছুটা এগিয়ে আসছে। অনেক পুষ্পপল্লভ গাছ এখন আর দেখা যায়না। আবার বসন্ত আসার আগেই অনেক গাছ ফুলে ফলে ভরে যায়। তবে যাই হোক বসন্ত আছে আগামীতেও থাকবে।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!